বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ব্যারিস্টার নাজির আহমদের মতো মেধাবীদের কাজে লাগালে দেশ কাঙ্খিত লক্ষ‍্যে পৌঁছতে পারবে….. ভিসি প্রফেসর ড. এ,এম সারওয়ার উদ্দিন চৌধুরী সিলেটে বন্ধ্যা দম্পতির সন্তান জন্মদানের চিকিৎসা নিয়ে সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’র যাত্রা শুরু শহিদ ওয়াসিম ব্রিগেডের বিশ্বনাথ উপজেলা কমিটি অনুমোদন সিলেটে দুই দিনব্যাপী হাছন উৎসব শুরু ফেসবুকে লিংক শেয়ারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ ‘ভিজে যাচ্ছিল পোশাক, ভয়ে কাঁপছিলাম’ ময়মনসিংহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও ২ জন গ্রেপ্তার বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা নিয়ে দিল্লির বক্তব্য ‘প্রত্যাখ্যান’ আমাদের সবাইকে এখন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : তারেক রহমান হাদির হত্যাকারী সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই : অতিরিক্ত আইজিপি

জাফলংয়ে অবৈধ পাথর উত্তোলন : নেপথ্যে এসআই ওবায়দুল্লা ও সামছু

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় চলছে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন। ফলে দৈনিক লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে একটি চক্র। একের পর এক চাঁদাবাজ চক্রের মধ্যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদাবাজিতে যুক্ত হচ্ছেন দায়িত্বরত পুলিশের এসআই ওবায়দুল্লা ও চোরাচালানের লাইনম্যান সামছু ও শিমু। এই তিনজনের নেতৃত্বে চলছে জাফলংয়ের চাঁদাবাজি।
অভিযোগে প্রকাশ, পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বাংলা বাজার, বালির হাওর, জাফলংয়ের জুমপার, ইসিএভুক্ত এলাকায় চলছে অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। জাফলংয়ের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যবেষ্টিত জাফলং জুমপার, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বরুনের জুং’ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাম রক্ষা বাঁধের দুই পাশে বোমা মেশিন, শ্যালো মেশিন ও ফেলুডার (বালু তোলার পাইপ মেশিন) দিয়ে দিনে রাতে অবৈধভাবে চলছে বালু ও পাথর উত্তোলন। এর মধ্যে জাফলং জুমপাড় বরুনের জুং, পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বাংলা বাজার, বালির হাওর, জাফলং ডাউকী নদীর ইসিএভুক্ত এলাকাসহ আশেপাশে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন ও ফেলুডার দিয়ে বালু পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে জাফলংয়ের পরিবেশ।
এসকল এলাকায় প্রায় ৩০টিরও বেশি গর্ত রয়েছে। এসকল গর্তে বোমা মেশিন, শ্যালো মেশিন, এক্সেভেটর ও ফেলুডার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতি বোমা মেশিন থেকে দৈনিক ১৫ হাজার, গর্ত থেকে ১০ হাজার, এক্সেভেটর থেকে ১৫ হাজার, শ্যালো মেশিন থেকে ২ হাজার ফেলুডার থেকে ২ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন থানার এসআই ওবায়দুল্লা ও তার দুই লাইনম্যান সামছু এবং শিমু।
স্থানীয়রা জানান, এসব কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল, যারা প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এখনই শক্ত পদক্ষেপ না নিলে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। একটি চক্র গত আগস্টের পর থেকেই ইসিএভুক্ত এলাকা জাফলং,বাংলা বাজার, বালির হাওর, পিয়াইন ও ডাউকী নদীর উৎসমুখ হয়ে জাফলং সেতু পর্যন্ত অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করছে। এতে মাঝেমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে দায়সারা অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর সেই আগের রূপ ফিরে পায় জাফলং নদী।
স্থানীয়রা আরো জানায়, প্রশাসনের এমন দায়সারা অভিযান স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি করে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক চলে যাচ্ছে বালু ও পাথর নিয়ে। নদী আর বাঁধের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা। এই ট্রাক থেকে আরেকটি চক্র চাঁদাবাজি করে। সবমিলিয়ে চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য জাফলং।
পরিবেশবাদীদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া জাফলংয়ের অস্তিত্ব রক্ষা সম্ভব নয়।


এই ক্যাটাগরীর আরোও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর